Category Archives: Basic Photography

লাইটরুম ফর ফটোগ্রাফারস – ফারহান নাভিদ

ফটোগ্রাফিতে পোস্ট প্রোসেস সমান গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। আপনাদের জন্য আমি চেষ্টা করেছি এ্যাডব লাইটরুমটা সহজ করে আনার। টিওটোরিয়াল আকারে বিষয় গুলা ইউটিউবে আপ্লোড করা আছে। আশা করি আপনাদের জন্য পোস্ট প্রোসেসিং এখন আরো সহজ হয়ে আসবে।
#Happyclicking #happysharing

ইইউটিউব লিংক ঃ https://www.youtube.com/playlist?list=PL3PEj6ypyAduMBhajP63EEPNGtrzLNWfJ

সাবস্ক্রাইব লংক ঃ www.youtube.com/c/NavidFarhan

লেন্সের গায়ে ফোকাল লেংথের পাশে যে লেখা থাকে, ১:৪-৫.৬ এর মানে কি?

আপনারা লেন্স ব্যবহার করতে গিয়ে লেন্সের গায়ে ফোকাল লেংথের পাশে যে লেখা দেখে থাকেন, ১:৪-৫.৬ এর মানে কি?

মনে না থাকলে আমি বলে দিচ্ছি, ক্যানন ক্রপ বডির জনপ্রিয় কিট লেন্স ১৮-৫৫ মি.মি এসটিএমকে নিয়ে উদাহরণ দিচ্ছি। ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত নিচের ছবিটা লক্ষ্য করে দেখুন এই লেন্সের গায়ে দেখতে পাচ্ছেন, ১৮-৫৫ মি.মি ফোকাল লেংথের পরে ১:৪-৫.৬ লেখা রয়েছে। তারমানে হচ্ছে, আপনি যখন সর্বনিম্ন ফোকাল লেংথ মানে এখানে ১৮ মি.মি থেকে জুম ইন করতে শুরু করবেন তখন একটা সময় আপনার সর্বোচ্চ এ্যাপাচার এফ৪ শিফট করে এফ৫.৬ তে পরিবর্তিত হবে। একে ফটোগ্রাফির ভাষাতে বলা হয়, ভ্যারিএবল এ্যাপারচার লেন্স।

কিছু দামী জুম লেন্সে ফিক্সড এ্যাপারচার থাকে তাতে লেখা থাকে ১:২.৮ বা ১:৪। একে ফটোগ্রাফির ভাষাতে বলা হয়, ফিক্সড এ্যাপাচার লেন্স।

এছাড়া প্রাইম লেন্সে ফোকাল লেন্স ও এ্যাপাচার দুইটাই ফিক্সড থাকে।

১:৪(এফ) এই ১ এর পর যেটা বসবে সেটাই এ্যাপারচার (এফ)। এই এ্যাপাচার যত বড় বা ফাস্ট হবে, মানে এফ স্টপ নম্বর যত কম তত লেন্সের দাম বেশী হবে।

আশা করছি, এখন আপনার লেন্সের গায়ের ১:এফ দেখে বুঝে ফেলতে পারবেন ওই লেন্সটার এ্যাপারচার কত এবং কত দামী লেন্স।

ফটো: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

#অ_আ_ফটোগ্রাফি_টিপস

Explanations of Lens abbreviations

Each lens manufacturer uses different abbreviations to describe the features or aspects of a lens. This post lists all abbreviations of Canon, Nikon, Sigma, Tamron and Tokina. Some general terms such as AF (auto-focus) and MF (manual-focus) are not listed.

Canon

ABBREVIATION MEANING DESCRIPTION
AFD Arc-Form Drive An older type of auto focus motor, generally slower and noisier than USM
DO Diffractive Optics A technology used to make lenses with long focal lengths without the normal increase in physical size
ED Extra-low Dispersion Prevents chromatic aberration because it concentrates and directs the wavelength of the light more effectively onto the camera’s sensor
EF Electro Focus Standard lens mount, compatible with all EOS bodies
EF-S Electro Focus – Short back focus Lens mount for APS-C sensor DSLRs
IF Inner Focus To ensure stability in focusing, this lens moves the inner lens group or groups without changing the lens’ physical length
IS Image Stabiliser A family of techniques used to reduce blurring associated with the motion of a camera. Specifically, it compensates for pan and tilt of a camera
L Luxury Professional lenses; good optical performance and a solid construction
MP-E Macro Photo Electronic These lenses are designed for macro photography and do not have autofocus, the “electronic” refers to the electronic aperture control
TS-E Tilt-Shift lens Control of perspective and depth of field
USM Ultra Sonic Motor Auto focus motor that offers fast and silent focusing powered by the ultrasonic vibration of a component, the stator, placed against another component

 

পিক্সেল বনাম ডিপিআই

– ভাই এক্সজিবিশনে ছবি দিবো। কইলো ৩০০০ পিক্সেল X ২০০০ পিক্সেল ২০০ ডিপিআইয়ে দিতে। ভাই পিক্সেল কি?

আমি কইলাম,
– বাথরুমে যখন বসেন তখন দেখেন টাইলসের মতন চারকোণা বক্স। ওদির মতন দেখতে পিক্সেল। একটা ছবি হইতেছে সেইরকম অনেকগুলো টাইলসের সমষ্টি মানে পিক্সেলের সমষ্টি।

পিক্সেল যত বেশী তত বেশী শার্প ছবি। মানে ছবি যত বড় করবে তত কম ফাটবে।

ডিপিআই মানে হচ্ছে, ডট পার ইঞ্চি। যা প্রিন্টের সময় দরকার হয়। যত বেশী ডট তত ঘন প্রিন্ট।

তবে, ছবির পিক্সেল কম থাকলে যত বেশী ডিপিআই দেওয়া হোক না কেন ছবি অস্পষ্ট মনে হবে। তাই ছবির পিক্সেল স্ট্যান্ডার্ড হওয়া চাই।

এবার অংকে আসি, ছোটবেলায় জ্যামিতির ক্ষেত্রফলের কথা মনে আছে? দৈঘ্য X প্রস্থ = ক্ষেত্রফল। ভার্টিকাল অংশ দৈঘ্য আর হরাইজন্টার অংশ প্রস্থ।

দৈঘ্য X প্রস্থ এর জন্য ১০টা টাইলস নিলাম মানে  আর কি। তাহলে ১০ X ১০ = ১০০ পিক্সেল একটা ছবি পেয়ে গেলাম। এবং সেটার ভিতর যদি প্রিন্ট দেই সেখানে ১০ X ১০ = ১০০ ডট দিতে হবে।

তাহলে, সমীকরণ দাঁড়ালো,
পিক্সেল / ডিপিআই
= ১০০ পিক্সেল/ ১০০ ডিপিআই
= ১ ইঞ্চি।

আমরা পেয়ে গেলাম ১ ইঞ্চির প্রিন্টেড ছবি।

অনেক সময় ক্যামেরার গায়ে লেখা দেখবেন ২০ মেগাপিক্সেল। এর মানে ১ মেগা পিক্সেল হলো ১ মিলিয়ন পিক্সেল মানে ১০ লাখ পিক্সেল। আপনি বের করে ফেলতে পারবেন ৫০০০ পিক্সেল X ৪০০০ পিক্সেল = ২০ মেগাপিক্সেল।

এখানে আমরা ডিপিআই লাগিয়ে দিয়ে প্রয়োজন মতন সাইজ প্রিন্ট দিতে পারবো।

আপনি এখন সহজে বের করতে পারবেন, ৩০০০ পিক্সেল X ২০০০ পিক্সেল ছবিতে ২০০ ডিপিআই দিলে কত সাইজ প্রিন্টেড ছবি বের হবে তা আমি নিচে সমীকরণে মিলিয়ে দিলাম,

৩০০০ পিক্সেল X ২০০০ পিক্সেল / ২০০ ডিপিআই
= ৬০ ইঞ্চি X ৪০ ইঞ্চি ।

আপনার ছবির সাইজ হচ্ছে, ৬০ ইঞ্চি X ৪০ ইঞ্চি।

আশাকরি, পিক্সেল ও প্রিন্ট সাইজের ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়ে গেছে।

হ্যাপি ক্লিকিং

ফাঙ্গাস থেকে ক্যামেরা ও লেন্সের সুরক্ষা

অনীক ইসলাম জাকী, সময় নিউজ, ঢাকা।
আমাদের দেশে বর্ষাকালে আদ্রতা বেশী আর শীতকালে ধূলো, দু’টোই ক্যামেরা এবং লেন্সের শত্রু। অতিরিক্ত আদ্রতার কারণে লেন্সে ফাঙ্গাস পড়ে আর ধূলো-বালি জমা হতে পারে সেন্সরে। তাই সব সময়ই ক্যামেরা এবং লেন্সের জন্য বাড়তি কিছু যত্ন প্রয়োজন।

১. ক্যামেরা এবং লেন্স সব সময় শুকনো এবং আলোকিত স্থানে রাখুন। ভেজা / স্যাতস্যাতে এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ ফাঙ্গাস তৈরীর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ।
২. ক্যামেরা এবং লেন্স সব সময়ই ব্যবহার শেষে পরিস্কার করে কোন এয়ার টাইট বক্সে সিলিকা জেল দিয়ে রাখুন। সিলিকা জেল অতিরিক্ত আদ্রতা শুষে নিবে।
৩. ক্যামেরা পরিস্কার করার সময় প্রথমে ব্রাশ এবং এরপর ব্লোয়ার দিয়ে এর বহিরাঙ্গন পরিস্কার করুন, যাতে আলগা ধূলো পরিস্কার হয়।
৪. লেন্সও একই ভাবে পরিস্কার করুন। এরপর লেন্স খুলে লেন্স ক্লথ দিয়ে সামনের এবং পিছনের এলিমেন্ট দু’টো পরিস্কার করুন। লেন্সের সামনের এলিমেন্টে কোন হাতের ছাপ থাকলে লেন্স পেন দিয়ে সেটা পরিস্কার করতে পারেন।
৫. লেন্স খোলার পর বডির ভিতরে যে মিরর আছে সেটা লেন্স ক্লথ দিয়ে আলতো করে মুছে ফেলুন। চাপ দিবেন না, মিরর খুবই পাতলা।
৬. মিরর লকআপ করে ক্যামেরা বডি উল্টা করে ধরে (মাউন্ট নিচের দিকে, এলসিডি উপরের দিকে) ব্লোয়ার দিয়ে জোরে জোরে ব্লো করুন কয়েকবার। সেন্সরে আলগা ধূলো থাকলে ঝড়ে যাবে।
৭. লেন্স ক্লথ দিয়ে এলসিডি স্ক্রিন পরিস্কার করতে পারেন।

সেন্সরে কোন ময়লা যদি লেগে থাকে এবং ব্লোয়ার দিয়ে ব্লো করার পরও না যায়, তবে অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিন।

লেন্সে যদি ফাঙ্গাস পড়েই যায় তো কি করবেন – প্রতিদিন নিয়ম করে লেন্সগুলো রোদে দেন। এমনভাবে দিবেন যাতে রোদ প্রথম এলিমেন্ট থেকে শেষ এলিমেন্ট পর্যন্ত ভালমত যায়। প্রতিদিন ১৫/২০ মিনিট করে ৭-১০ দিন এভাবে রোদে দেন। এতে ফাঙ্গাসের বৃদ্ধি থেমে যাবে। বাংলাদেশে এটলিষ্ট কোথাও ক্লিন করাতে দিয়েন না। উল্টা অন্য প্রবলেম তৈরী করে দিবে।

হোলি উৎসব ফটোগ্রাফির টুকিটাকি – অয়ন আহমেদ

যদি প্রথমবারের মতন হোলি উৎসব দেখতে যান সেটি হবে আপনার জন্য খুবই রোমাঞ্চকর ও সুখকর অভিজ্ঞতা। আপনি খুব সুন্দর রঙীন মুহূর্ত ফুটিযে তুলতে পারবেন। অনেক হরেক রংয়ের খেলার উৎসব এটি। আপনি আপনার ক্যামেরা ও লেন্স সযত্নে ভালো মতন কভার করে গুড়া রং ও জলীয় রং থেকে বাঁচিয়ে দারুন সব ছবি তুলে সবাইকে চমকে দিতে পারেন।

Colorful Excitement 3/25

প্রতিবছর সাধারণত মার্চের শেষ সপ্তাহে, এবছর ২৪ মার্চ ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার আরো কয়েকটি জায়গায় বড় করে হোলি উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। আগের দিন আবীর মেখে হোলি উৎসব শুরু হয়।

আমি হোলি উৎসবের ছবির ফটোগ্রাফি নিয়ে কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম, যারা আপনারা ছবি তুলতে যাবেন তাদের জন্য খুব কাজে আসবে।

আজকের লেন্সগল্প (৬) : পোকাপুকি ওরফে ম্যাক্রু লেন্স – কুতুব উদ্দীন

প্রথমে জানিয়ে রাখি এই গল্পটা আমি লিখি নাই। ম্যাক্রু যাদুকর কুতুব উদ্দীন ম্যাক্রো লেন্স নিয়ে এই গল্পটি লিখেছে। গ্রাসহপার্স এর অনেক মেম্বার অনুরোধ করেছিলেন, ম্যাক্রো লেন্স নিয়ে কিছু একটা লিখতে। আমি ম্যাক্রো লেন্স সম্পর্কে অজ্ঞ তাই আমি কুতুব উদ্দীনের সহযোগিতা চেয়েছিলাম। উনি আমাকে নিরাশ করেন নি। দারুন গল্প লেখে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আমি উনাকে গল্পটা গুছিয়ে দিয়েছি তারপর উনার অনুমতি নিয়ে আমি গল্পটি নিজে আপলোড করলাম। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

————————————————————————————————-
আজকের লেন্সগল্প (৬) : পোকাপুকি ওরফে ম্যাক্রু লেন্স – কুতুব উদ্দীন

একদিন অনলাইনে বসে বসে ছবি দেখতেছিলাম, একটা মাছির চোখ দেখে মুখ হা হয়ে গেলো, মাথা আউলাইয়া গেলো, ভাবতে লাগলাম হালায় এইডা তুলল ক্যামনে ! না, আমাকেও ম্যাক্রো করতে হবে। পুকাপোকিগ্রাফি করতে হবে।

১৮-৫৫ মি.মি কিট লেন্স হাতে নিয়া মাছি খুজতে লাগলাম্। রান্না ঘরে বউয়ে রান্দে, আমি এই ঘরে ওই ঘরে গিয়ে মাছি খুঁজি। আমার বউ আমার উল্টা পাল্টা কাজকারবারের ব্যাপারটা খেয়াল করলো। আমার বউ আমারে ঝারি দিয়া কইলো, “এদিক ওদিক এখানে ওখানে কি করো। এক জায়গাতে স্থির হয়ে বসে থাকো”। আমি মুচকি হাসি দিয়ে কহিলাম,“জ্বি মানে, একটা বদ মাছি ঢুকছে, ওইটারে একটু সাইজ দিতে ঢুকছি”।

একটা মাছি পেয়েও কিট লেন্স দিয়ে মাছির চোখতো দূরে থাক, মাছিটারেও কাছে টেনে আনতে পারলাম না। মেজাজটা খুব খারাপ হলো। এতো দাম দিয়ে ক্যামেরা কিনলাম হালার বলদা মাছিটারেও টাইনা কাছে আনতে পারলাম না। আমি হালার একটা বলদ। এই দুঃখ কই রাখি । মন খারাপ হলো অনেক।

Kutub Uddin Macro -3

পড়ার ঘরে এসে অনলাইনে ঘাঁটাঘাঁটি করলাম। বুঝতে পারলাম বেকুবতো আমার ক্যামেরা না, বেকুবতো হালার আমি। কিট লেন্স দিয়ে কি ম্যাক্রু হয়।

যাউকগা, ট্যাকটুকা নাই ম্যাক্রু লেন্স কিননের, তাই কিট লেন্সটারে দিয়া ম্যাক্রু তুলুম তাই ম্যাক্রু ফিল্টার কিনলাম।

ম্যাক্রু ফিল্টার দিয়া আরেকটা মাছিরে কাছে পেয়ে গেলাম। লগে লগে কিলিক। খুশীতে ডিসপ্লে দেইখ্যা চান্দি হট। সব কালাকুলা ছবি মাথামুথা কোনদি যে কি, বুঝনের নো ওয়ে। লাইটিং সেটআপ ভ্যাজাল হইতাছে।। লাইটতো পর্যাপ্ত পাচ্ছিলাম না। আবার অনলাইনে ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখলাম এবং বুঝলাম আমাকে আবার ফকির হতে হবে মানে ম্যাক্রু ফ্ল্যাশও একটা কিনতে হবে। যাই হোক কিনলাম। আবার ছবি তুললাম, মাগার আবার নতুন সমস্যা কিমুন জানি ঘুলাঘুলা, নো ইস্পষ্ট, মাথা ঘুরাইলে যেমন দুনিয়াডা ঘুলা লাগে, হেরাম লাগে। পর্যাপ্ত শার্পনেস পাচ্ছিলাম না,
হঠাৎ দেখি ম্যাক্রুর প্রেমে পইড়া গেছি। ওরে প্রেম হালার মাথা নষ্ট কইরা
ঠিক করলাম ম্যাক্রু লেন্স কিনবো। টাকা জমানো শুরু করলাম।

একদিন ম্যাক্রু লেন্স কিনে নিলাম ১০০ এম এম এর এবং ঝাঁপাই পড়লাম ম্যাক্রুগ্রাফিতে। পোকাপুকা, ব্যাঙাবুঙা যাই পাইছি কোপাইয়া লাইছি।

যাই হোক আসল কথায় আসি, মেলা গল্প হইছে, দুষ্টুমী হইছে, এবার একটু সিরিয়াস টেকনিকাল আলাপ ছাড়ি, ম্যাক্রো লেন্স হলো, সেই লেন্স যেটা আপনি ব্যবহার করে একটা সাবজেক্টকে আপনার চোখের ঠিক সামনে এনে আপনি যতো বড় দেখবেন ততো বড় বা তার চেয়ে বড় এই লেন্স দেখাবে।

Kutub Uddin Macro-1

ম্যাক্রো ১:১ মেগ্নিফিকেশন থেকে শুরু হয়। এখন কথা হচ্ছে ১:১ মেগ্নিফিকেশন্টা কি ? ১:১ হচ্ছে লাইফ সাইজ। এখানে প্রথম ১ হচ্ছে, আপনার ক্যামেরার প্রজেক্টরে সাবজেক্ট এর সাইজ এবং অন্যটি হচ্ছে রিয়েল লাইফে সাবজেক্টের সাইজ। মনে করেন, একটা মাছি যদি ১ সেন্টিমিটার লম্বা হয় এবং আপনার লেন্স যদি সেটাকে সেন্সরে ১ সেন্টিমিটার প্রোজেক্ট করে তাহলে সেটি ১:১ মেগ্নিফিকেশন। আর যদি সেন্সরে সেটি .৫ প্রজেক্ট করে তাহলে বুঝতে হবে আপনার সাবজেক্ট প্রজেক্টার থেকে .৫ টাইমস বড়। তারমানে সেটিকে ১:১.৫ মেগ্নিফিকেশন বলে কিন্তু ১:১.৫ ম্যাক্রো নয়। এখন মনে করেন, মাছিটিকে আপনার ক্যামেরার প্রজেক্টরে ৫ সেন্টিমিটার দেখাচ্ছে তার মানে রিয়েল লাইফে মাছিটি ৫ টাইমস ছোট। আর সেটিকে ৫:১ মেগ্নিফিকেশন বলে্। সাধারন ম্যাক্রো লেন্সগুলা ১:১ থাকে। শুধু ক্যানন এর ৬৫ এম এম লেন্সটি ৫:১ মেগ্নিফিকেশন হয়। ১:১ মেগ্নিফিকেশন থেকে আপনাকে আরও বড় পেতে হলে আপনাকে ম্যাক্রো ফিল্টার বা এক্সটেনশন টিউব ব্যাবহার করতে হবে। আপনার ম্যাক্রো লেন্স এর সাথে ট্যামরন ৭০ এম এম – ৩০০ এম এম লেন্সকে ম্যাক্রো ম্যাক্রো লেন্স বলে চালাচ্ছে আসলে এটি ম্যাক্রো লেন্স না। কারন এটি ১:২ মেগ্নিফিকেশন যার মানে এটি সাবজেক্টকে নর্মাল থেকে ২ টাইমস ছোট দেখায়।

হে:হে: আজকেই নেমে পড়ুন ম্যাক্রুগ্রাফি ওরফে পোকাপুকিগ্রাফি । আপনার ম্যাক্রুগ্রাফির প্রতি শুভ কামনা।

Kutub Uddin Macro-2

(কুতুব উদ্দীন)

আজকের লেন্সগল্প : ৪ পাখী লেন্স বা জঙ্গলী লেন্স বা টেলি লেন্স – অয়ন আহমেদ

আপনার ঘুম ভাঙ্গল টুই টুই শব্দে। চোখ মেলে দেখলেন আপনার ডান পাশে জানালাতে চড়ুই পাখি টুই টুই করে ডাকছে। আপনার মন ভরে গেল। ভাবলেন এইটার একটা ছবি তোলা দরকার। পাখী আপনাকে জাগিয়ে দিয়ে বারান্দায় গিয়ে বসলো। চড়ুই পাখীর সাইজ এটুকুন ৩ কি ৪ ইঞ্চি হবে আপনার হাতের তালুর অর্ধেক এটুকু সাইজকে কিভাবে ক্যামেরা বন্দী করবেন। আপনার মাথা হঠাৎ বুদ্ধি এলো ম্যাগনিফাইন গ্লাসের মতন দেখতে বড় করে দিলে পাখীটা বড় লাগবে। কিন্তু ক্যামেরাতে তো ম্যাগনেফাইন গ্লাস লাগানো জায়গা নাই। আবার আপনার মন খারাপ হলো। হঠাৎ আপনি ঠিক করলেন হিসাব নিকাশ করতে হবে কত বড় তুলবেন ধরেন ৩২ মি.মি ক্রপের হিসাবে বা ৫০ মি.মি ফুল ফ্রেমের হিসাবে স্বাভাবিক দেখতে পাচ্ছেন। মানে ওই পাখীটা ৩ কি ৪ ইঞ্চি দেখতে পাচ্ছেন এতে কোন লাভ হলো না। আপনি রাগে দুঃখে ১৮-৫৫ জাতীয় লেন্স খুলে ফেললেন। অনেক গরম পড়েছে তাই আপনার মাথা আরো গরম হয়ে গেছে। পরে আপনি ঠান্ডা পানি খেলেন ঠান্ডা হয়ে ভাবলেন, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। আবার ভাবতে লাগলেন কি করা যায়। হঠাৎ আপনার মাথায় আসলো ফোকাল লেংথ যদি বাড়ে তাহলে পাখী আরো কাছে চলে আসবে যাকে বলে জুম ইন। আপনি ঠিক করলেন আপনার প্রিয় পাখীলেন্স মানে ৫৫-২৫০ মি.মি আপনার ক্রপ বডিতে লাগালেন। ২৫০ মি.মি এ রাখার সাথে সাথে আপনার মন ভালো হয়ে গেল। আপনি চড়ুই পাখীটার মনের মতন ছবি পেয়ে গেলেন। ফোকাল লেংথ বড় হওয়ার জন্যে বারান্দার ওপাশে থাকা বাড়ীঘরগুলো ঘোলা হয়ে গেল আপনি স্পষ্ট আপনার পাখীকে ক্যামেরা বন্দী করে ফেললেন। খুশী হয়ে আপনি ফেইসবুকে দিয়ে দিলেন অনেক লাইক পেয়ে গেলেন। আপনি মুচকি হাসি দিয়ে ভাব নিলেন। হে: হে:। তবে সত্যিকার অর্থে পাখীগ্রাফি, জঙ্গলীগ্রাফি এতটা সহজ নয়। যারা সত্যিকার অর্থে ওয়াইল্ড লাইফ নিয়ে কাজ করেন তাদেরকে দিনের পর দিন জঙ্গলে তাবু টাঙ্গিয়ে থাকতে হয়। তারপর পাখীর জীবনযাত্রার উপর রিসার্চ করে ছবি তুলতে হয়। আমার এই গল্পটা শুধুমাত্র নতুন ফটোগ্রাফারদের জন্যে যারা পুরাতন ফটোগ্রাফার তারা অনেক বেশী টেকনিক খাটিয়ে আরো ভালো বুদ্ধি বের করে পাখীগ্রাফি করতে পারেন।

Tele Lens

আজকের লেন্সগল্প : ৩ সুন্দরী লেন্স বা পোট্রেট লেন্স – অয়ন আহমেদ

আমরা যখন শখে প্রিয়জনদের বা পেশাগতভাবে কারোর একলা ছবি তুলি তখন প্রায়ই ৫০ মি.মি প্রাইম লাগাই। কেন লাগাই? একটা বড় কারন পিছে ঘুলা হয়ে যাবে মানে ব্যাকগ্রাউন্ড বুকেহ, আউট অফ ফোকাস হয়ে যাবে। যার ফলে সাবজেক্টটাকে অনেক প্রাণবন্ত লাগে। তাছাড়া ছবিতে মডেলরে এক্সট্রা মোটা লাগে না কারন ৫০ মি.মি লেন্স এ ডিসর্টসন নাই। ডিসর্টসন মানে বেকাবুকা, টেরাটুরা, মোটামাথা এর রকম লাগবে মূল সাবজেক্টাকে। এর কারন ওয়াইড ফোকাল লেন্থ এর জন্যে। যাই হোক বেশীরভাগ প্রাইম লেন্সগুলান এই বাঁকাবুকার ঝামেলা থাকে না। তবে কিছু জুম লেন্স আছে যেমন ১৭-৫০ ট্যামরন যা দিয়ে আমি যতবার তোমার ভাবির ছবি তুলেছি আমাকে বকাঝকা দিয়েছে,“আমাকে এত মোটা বানাইছো ক্যান” ? এইটা মূল কারণ ছিল ওই ডিসর্টসন। এছাড়া টেলিলেন্স যেমন ধরো ইএফএস ৫৫-২৫০ যা দিয়ে খুব সুন্দর আপাগ্রাফী ও ভাইয়াগ্রাফী করতে পারবেন। ডিসর্টসন নাই কোন। শুধু দুঃখের বিষয় এ্যাপাচার বড় না থাকার কারনে অনেক আলোর দরকার পড়ে। তাই ইনডোর শুটিং এ পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করতে ফ্ল্যাশ ব্যবহার করতে হবে। আরো মজার ব্যাপার আছে ইএফএস লেন্স কিন্তু ক্রপ বডির কথা চিন্তা করে বানানো হয়। যেসব লেন্স এর গায়ে লাল বিন্দু মার্কা দাগ পাবেন সেগুলা ক্রপ ও বনেদী মানে ফুল ফ্রেম বডিতে সার্পোট করবে। জগতের সকল সুন্দরীদের ছবি তুলতে যেই লেন্স ব্যবহৃত হয় সেগুলোকে সুন্দরী লেন্স বলে যেমন প্রাইম ৫০, প্রাইম ৮৫, প্রাইম ১৩৫, ২৪-৭০, ৭০-২০০ ইত্যাদি জনপ্রিয় সুন্দরী লেন্স। এগুলো জনপ্রিয় হওয়ার একটাই কারণ সুন্দর রং ও বুকেহ পাওয়া যায় এবং এগুলোর এ্যাপারচার বড় হয়ে থাকে এফ১.৮ ও এফ২.৮। শুধু ‍সুন্দরীদের ছবি তোলা হয় তা কিন্তু নয় সুন্দরদেরও ছবি তোলা হয়। তবে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সুন্দরীরা মডেল থাকে তাই আরকি সুন্দরী লেন্স নাম দেওয়া।

আজকের লেন্সগল্প : ১ নরমাল লেন্স – অয়ন আহমেদ

Ajker Lens Golpo

অনেক দিন আগে আমি একটা কথা বলে ছিলাম, সেটি ছিল লেন্স সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গল্প করব। ধরো তুমি পাহাড়ের ছবি তুলতে চাও তাহলে কি লেন্স ব্যবহার করবে, কেন করবে, কতটুকু মি.মি. লাগবে। এইভাবে আমরা গল্প করে লেন্স সম্পর্কে জেনে যেতে পারব। খুব ভাব নিয়ে সিরিয়াসলী নিলে শেখার ভিতর আনন্দ থাকবে না। মনেও থাকবে না। যে কোন শিক্ষাকে আনন্দ করতে করতে শেখো সারাজীবন মনে থাকবে। এইটার একটা নাম দেই। নাম দিলাম আজকের লেন্সগল্প । যখন সময় পাব আমরা লেন্স নিয়ে গল্প করব।