Monthly Archives: April 2014

আজকের লেন্সগল্প : ৪ পাখী লেন্স বা জঙ্গলী লেন্স বা টেলি লেন্স – অয়ন আহমেদ

আপনার ঘুম ভাঙ্গল টুই টুই শব্দে। চোখ মেলে দেখলেন আপনার ডান পাশে জানালাতে চড়ুই পাখি টুই টুই করে ডাকছে। আপনার মন ভরে গেল। ভাবলেন এইটার একটা ছবি তোলা দরকার। পাখী আপনাকে জাগিয়ে দিয়ে বারান্দায় গিয়ে বসলো। চড়ুই পাখীর সাইজ এটুকুন ৩ কি ৪ ইঞ্চি হবে আপনার হাতের তালুর অর্ধেক এটুকু সাইজকে কিভাবে ক্যামেরা বন্দী করবেন। আপনার মাথা হঠাৎ বুদ্ধি এলো ম্যাগনিফাইন গ্লাসের মতন দেখতে বড় করে দিলে পাখীটা বড় লাগবে। কিন্তু ক্যামেরাতে তো ম্যাগনেফাইন গ্লাস লাগানো জায়গা নাই। আবার আপনার মন খারাপ হলো। হঠাৎ আপনি ঠিক করলেন হিসাব নিকাশ করতে হবে কত বড় তুলবেন ধরেন ৩২ মি.মি ক্রপের হিসাবে বা ৫০ মি.মি ফুল ফ্রেমের হিসাবে স্বাভাবিক দেখতে পাচ্ছেন। মানে ওই পাখীটা ৩ কি ৪ ইঞ্চি দেখতে পাচ্ছেন এতে কোন লাভ হলো না। আপনি রাগে দুঃখে ১৮-৫৫ জাতীয় লেন্স খুলে ফেললেন। অনেক গরম পড়েছে তাই আপনার মাথা আরো গরম হয়ে গেছে। পরে আপনি ঠান্ডা পানি খেলেন ঠান্ডা হয়ে ভাবলেন, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। আবার ভাবতে লাগলেন কি করা যায়। হঠাৎ আপনার মাথায় আসলো ফোকাল লেংথ যদি বাড়ে তাহলে পাখী আরো কাছে চলে আসবে যাকে বলে জুম ইন। আপনি ঠিক করলেন আপনার প্রিয় পাখীলেন্স মানে ৫৫-২৫০ মি.মি আপনার ক্রপ বডিতে লাগালেন। ২৫০ মি.মি এ রাখার সাথে সাথে আপনার মন ভালো হয়ে গেল। আপনি চড়ুই পাখীটার মনের মতন ছবি পেয়ে গেলেন। ফোকাল লেংথ বড় হওয়ার জন্যে বারান্দার ওপাশে থাকা বাড়ীঘরগুলো ঘোলা হয়ে গেল আপনি স্পষ্ট আপনার পাখীকে ক্যামেরা বন্দী করে ফেললেন। খুশী হয়ে আপনি ফেইসবুকে দিয়ে দিলেন অনেক লাইক পেয়ে গেলেন। আপনি মুচকি হাসি দিয়ে ভাব নিলেন। হে: হে:। তবে সত্যিকার অর্থে পাখীগ্রাফি, জঙ্গলীগ্রাফি এতটা সহজ নয়। যারা সত্যিকার অর্থে ওয়াইল্ড লাইফ নিয়ে কাজ করেন তাদেরকে দিনের পর দিন জঙ্গলে তাবু টাঙ্গিয়ে থাকতে হয়। তারপর পাখীর জীবনযাত্রার উপর রিসার্চ করে ছবি তুলতে হয়। আমার এই গল্পটা শুধুমাত্র নতুন ফটোগ্রাফারদের জন্যে যারা পুরাতন ফটোগ্রাফার তারা অনেক বেশী টেকনিক খাটিয়ে আরো ভালো বুদ্ধি বের করে পাখীগ্রাফি করতে পারেন।

Tele Lens

আজকের লেন্সগল্প : ৩ সুন্দরী লেন্স বা পোট্রেট লেন্স – অয়ন আহমেদ

আমরা যখন শখে প্রিয়জনদের বা পেশাগতভাবে কারোর একলা ছবি তুলি তখন প্রায়ই ৫০ মি.মি প্রাইম লাগাই। কেন লাগাই? একটা বড় কারন পিছে ঘুলা হয়ে যাবে মানে ব্যাকগ্রাউন্ড বুকেহ, আউট অফ ফোকাস হয়ে যাবে। যার ফলে সাবজেক্টটাকে অনেক প্রাণবন্ত লাগে। তাছাড়া ছবিতে মডেলরে এক্সট্রা মোটা লাগে না কারন ৫০ মি.মি লেন্স এ ডিসর্টসন নাই। ডিসর্টসন মানে বেকাবুকা, টেরাটুরা, মোটামাথা এর রকম লাগবে মূল সাবজেক্টাকে। এর কারন ওয়াইড ফোকাল লেন্থ এর জন্যে। যাই হোক বেশীরভাগ প্রাইম লেন্সগুলান এই বাঁকাবুকার ঝামেলা থাকে না। তবে কিছু জুম লেন্স আছে যেমন ১৭-৫০ ট্যামরন যা দিয়ে আমি যতবার তোমার ভাবির ছবি তুলেছি আমাকে বকাঝকা দিয়েছে,“আমাকে এত মোটা বানাইছো ক্যান” ? এইটা মূল কারণ ছিল ওই ডিসর্টসন। এছাড়া টেলিলেন্স যেমন ধরো ইএফএস ৫৫-২৫০ যা দিয়ে খুব সুন্দর আপাগ্রাফী ও ভাইয়াগ্রাফী করতে পারবেন। ডিসর্টসন নাই কোন। শুধু দুঃখের বিষয় এ্যাপাচার বড় না থাকার কারনে অনেক আলোর দরকার পড়ে। তাই ইনডোর শুটিং এ পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করতে ফ্ল্যাশ ব্যবহার করতে হবে। আরো মজার ব্যাপার আছে ইএফএস লেন্স কিন্তু ক্রপ বডির কথা চিন্তা করে বানানো হয়। যেসব লেন্স এর গায়ে লাল বিন্দু মার্কা দাগ পাবেন সেগুলা ক্রপ ও বনেদী মানে ফুল ফ্রেম বডিতে সার্পোট করবে। জগতের সকল সুন্দরীদের ছবি তুলতে যেই লেন্স ব্যবহৃত হয় সেগুলোকে সুন্দরী লেন্স বলে যেমন প্রাইম ৫০, প্রাইম ৮৫, প্রাইম ১৩৫, ২৪-৭০, ৭০-২০০ ইত্যাদি জনপ্রিয় সুন্দরী লেন্স। এগুলো জনপ্রিয় হওয়ার একটাই কারণ সুন্দর রং ও বুকেহ পাওয়া যায় এবং এগুলোর এ্যাপারচার বড় হয়ে থাকে এফ১.৮ ও এফ২.৮। শুধু ‍সুন্দরীদের ছবি তোলা হয় তা কিন্তু নয় সুন্দরদেরও ছবি তোলা হয়। তবে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সুন্দরীরা মডেল থাকে তাই আরকি সুন্দরী লেন্স নাম দেওয়া।

আজকের লেন্সগল্প : ২ জাতীয় লেন্স বা কিট লেন্স – অয়ন আহমেদ

ধরো আমাদের একটা ১৮ মি.মি – ৫৫ মি.মি এর একটা লেন্স আছে । কারোর আছে ১৭-৫০ মি.মি. । কারোর ১৮-১০৫, ১৮-১৩৫, ১৮-২০০। ক্রপ বডির লেন্স এগুলান। বনেদী বডি মানে ফুল ফ্রেম এর ক্ষেত্রে ১৭-৫০, ২৪-৭০, ২৪-১০৫ মি.মি.। এইগুলোর নাম দিলাম জাতীয় লেন্স। কারন সব ধরনের ছবি তোলা যায়। যেমন পাহাড় পর্বত, নদী নালা, খালা বিল, আকাশ পাতাল, একলা মানুষ, একগাদা মানুষ, পশু – পাখী ইত্যাদি, ইত্যাদি ।যা দিয়ে সব কিছু তোলা যাবে তাকে নাম দিলাম জাতীয় লেন্স। যখন অনেকগুলো ফোকাল লেংথ থাকে যেমন ১৮-৫৫ তাকে বলে জুম লেন্স।

আজকের লেন্সগল্প : ১ নরমাল লেন্স – অয়ন আহমেদ

Ajker Lens Golpo

অনেক দিন আগে আমি একটা কথা বলে ছিলাম, সেটি ছিল লেন্স সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গল্প করব। ধরো তুমি পাহাড়ের ছবি তুলতে চাও তাহলে কি লেন্স ব্যবহার করবে, কেন করবে, কতটুকু মি.মি. লাগবে। এইভাবে আমরা গল্প করে লেন্স সম্পর্কে জেনে যেতে পারব। খুব ভাব নিয়ে সিরিয়াসলী নিলে শেখার ভিতর আনন্দ থাকবে না। মনেও থাকবে না। যে কোন শিক্ষাকে আনন্দ করতে করতে শেখো সারাজীবন মনে থাকবে। এইটার একটা নাম দেই। নাম দিলাম আজকের লেন্সগল্প । যখন সময় পাব আমরা লেন্স নিয়ে গল্প করব।